গরমে ত্বকের সংক্রমণ থেকে রক্ষা পাবার উপায়। গরমে ত্বক রক্ষা করার উপায়। গরমে ত্বকের যত্ন নিবেন যেভাবে । ত্বকের সংক্রমণ রোধে ঘরোয়া প্রতিকার।
এই গরমে যেন আমাদের সংক্রমণ টা অর্থাৎ ত্বকের সংক্রমণ টা বেরিয়ে যাচ্ছে। শরীরের চাপা অংশগুলো যেন গামে জর্জরিত শরীরে চাপা অংশগুলো থেকে ঘাম বেয়ে বেয়ে পড়ে। আর এইখান থেকে হয়তো আমাদের ত্বকের সংক্রমণ টা বৃদ্ধি পায়।
আমাদের দেহের বিভিন্ন অংশে ঘাম দিয়ে থাকে। এই ঘাম গুলো থেকে আমাদের ত্বকের সমস্যা বা ত্বকের ইনফেকশন অথবা ত্বকের সংক্রমণ বৃদ্ধি পেয়ে থাকে, হয়ে থাকে। আর গরম আসলে তো এই সমস্যাটা বেশি হয়ে থাকে। তখন আমাদেরকে বেশি বেশি করে ঘাম দেয়। আমাদের অনেক বেশি গরম লাগে। এবং তখন যেন পর হয়ে যায় নিজের শরীর দিকে। তাই এই সমস্যাটা আমরা গরমের সময়ে বেশি অনুভব করে বা বেশি উপস্থিতি লক্ষ করে থাকি।
আমাদের দেশে ফেব্রুয়ারি মার্চ মাস থেকে যেন গরমের আনাগোনা শুরু হয়। গরম যেন আস্তে আস্তে আমাদেরকে আমাদের দেহ থেকে খুব বেশি তাড়িত করে যাচ্ছে। গরম আমাদের তখন থেকেই কিছু হয়ে থাকে পিছু ছাড়ে না। আর মে মাস আসলেই মনে হয় যে গরমের উৎসব টা একটু বেশি জমজমাট হয়ে যায়। গরম তখন দলবল নিয়ে এসে আমাদের উপর আক্রমণ করতে থাকে। আমাদের অবস্থা পুরি হালুয়া টাইট করে দেয়। আমাদের অবস্থা নাজেহাল করে দেয়। গরমে তখন আর তখনই আমাদের দেহ থেকে আমাদের ত্বককে ওপর করতে থাকে অর্থাৎ সংক্রামন বৃদ্ধি করতে থাকে। ত্বকের সংক্রামন উৎপত্তি করে ত্বক থেকে বিভিন্ন রকম সমস্যা গুলো হয়তো আমাদের দেহে সৃষ্টি করে থাকে।
যদিও এ সময়টাতে আমাদেরকে বৃষ্টিও খুব দারুণ ভাবে তারা দিতে থাকে। আকাশে ঘন কালো মেঘ দেখা যায়। বাতাস বয়ে বেড়ায়। তবু আমাদেরকে গরম ছারা না বৃষ্টির মাঝে আমরা গরম অনুভব করি মেঘাচ্ছন্ন যে আমাদের সব সময় থাকে। তাই এটা নিয়ে আবহাওয়া অফিস ও আমাদের যেকোন স্বস্তির পথ দেখাতে পারেনা অর্থাৎ আমরা গরমে অনুভব করতে থাকি। বাতাস কমে বৃষ্টি কমেনি ঝড় কমে তবে গরম যে কমেনা তাই আমরা এই গরমের মধ্যেও ঘামতে থাকে। আরে ঘামতে থাকতে থাকতে আমাদের ত্বকের হয়তো কিছুটা সমস্যা হতে পারে।
ত্বকের জন্য ঘাম হওয়া ভালো। তবে অতিরিক্ত ঘাম হয় তো ভালো না। ঘাম শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে। এজন্য ঘাম হলে ভালো তবে আমাদের দেশে আদ্র আবহাওয়া উষ্ণতার জন্য বেশি পরিমাণ কমায়। সেজন্য আমাদের শরীরে অতিরিক্ত ঘাম ও দিতে পারে। এর সাথে সাথে আমাদের শরীরে যে সমস্ত চাপা অংশগুলো আছে সে সমস্ত অংশগুলোতে ঘাম দেখা দেয়। শরীরের বিভিন্ন অংশে চিপাচাপায় ঘাম হয় এতে করে আমাদের ত্বকের সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে। এই ঘাম দেওয়ার সাথে সাথে ঘামাচি উঠতে পারে। এই গরমে ঘামের কারণে আমাদের ঘামাচি হয়ে থাকে এবং ঘামাচি হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
অনেক সময় অনেকের ঘামের সাথে রেশ দেখা দিতে পারে। আবার কারো কারো ক্ষেত্রে প্রিকলি হিট ফোড়া বা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।
রেস এর প্রকারভেদ
রেস আবার নানা ধরনের হয়ে থাকে। অনেক প্রকারের হের দেখা যায় মানব শরীরে।
রেস
অনেকক্ষণ রোদে থাকলে বিশেষ করে অনেকক্ষণ যখন কড়া রোদে থাকা হয় তখনই এইরেস দেখা দেয়। এটি শরীরের খোলা অংশে লাল প্যাচের মত আকার ধারণ করতে পারে ওই অংশে অর্থাৎ যেখানে রেস দেখা দেবে। সেখানে জ্বালাপোড়া করতে পারে বিড়বিড়ানি করতে পারে।
স্যান ট্যান
আমরা যখন সূর্যের আলোতে আসি অথবা কড়া রোদে আসি তখনই আমাদের শরীরে রং বদলাতে থাকে। বিশেষ করে আমাদের শরীরের খোলা অংশগুলোর রং বদলায় না সেই গুলো তখন বাদামি বা কালচে রং হতে পারে। সান টেনের প্রভাবে শরীরের কোন অংশে জ্বালা পোড়ার পাশাপাশি দুই ধরনের রং বোঝা যেতে পারে।
ঘামাচি বা প্রিকলি হিট
কারো কারো শরীরে অতিরিক্ত ঘাম দেখা দেয় বা ঘামাতে থাকে। এজন্য অনেক সময় আমাদের লোমকূপ বা অনেকের লোমকূপ বন্ধ হয়ে যায়। যার ফলে তখন ছোট ছোট ফুসকুড়ি মত পেঁচ তৈরী হবে হয়তো এটি ঘামাচি বা প্রিকলি হিট হিসেবে পরিচিত।
তো জেনে গেলেন গরম বাড়ার সাথে সাথে আমাদের ত্বকের সংক্রমনের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। এবং কেন গরমে ত্বকের সংক্রমণ হয় সেটিও জানা যাচ্ছে।
ত্বকের সংক্রমণ রোধে ঘরোয়া প্রতিকার
দুই থেকে তিনবার গোসল করুন
এই গরমের মধ্যে মনে হয় গোসল না করলে নয়। তবে এই অতিরিক্ত গরমে চাইলে আপনি দুই থেকে তিনবার গোসল করতে পারেন। তবে সেটি যেন অতিরিক্ত কোনো ঠান্ডা পানি দিয়ে না হয়। যেটি আপনার শরীরের জন্য ক্ষতি করতে পারে অর্থাৎ আপনার শরীরে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে এরকম পানি দিয়ে গোসল না করে। আপনি স্বাভাবিকভাবে দুই থেকে তিনবার গোসল করতে পারেন। তাহলে আপনার শরীরের ঘাম গুলো চলে যাবে। আপনার শরীর শীতল হবে এবং আপনি আপনার ত্বকে সংক্রমণের হাত থেকে কিছুটা হলেও রক্ষা করতে পারবেন। এছাড়াও আপনি গোসলের সময় কোন বেশি পরিমাণ সুগন্ধি সাবান ইউজ না করে হালকা পাতলা কিছু ব্যবহার করতে পারেন। এতে করে আপনার ত্বকের জন্য ভালো হবে এ গরমের ভিতর।
অ্যালোভেরা জেল
ত্বকের জন্য এলোভেরা জেল খুবই উপকারী। আপনার ত্বকে ভালো কিছু দিতে পারে। অ্যালোভেরা জেল আপনি আপনার ত্বককে ভালো রাখতে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। এমনকি আপনি আপনার স্পর্শ কাতর অঙ্গগুলো তো এলোভেরা জেল ব্যবহার করতে পারেন। তবে এক্ষেত্রে আপনি খেয়াল রাখবেন যাতে করে অ্যালোভেরা জেল স্বচ্ছ হয়। তাহলে ভালো হবে ত্বকের সমস্যায় অ্যালোভেরা জেল খুব কাজে দেয় খুব কাজের হয়ে থাকে।
নিম পাতা
নিম পাতা ত্বকের জন্য কতটা উপকারী সেটা আপনি আপনার গ্রামের বৃদ্ধ যারা আছে তাদের কাছ থেকেই খুব ভাল জানতে পারবেন। কারণ তারা অনেক ভালো জানেন যে ত্বকের জন্য নিম পাতা কতটা উপকারী। আপনি আপনার ত্বকের চুলকানির জন্য বীচি পাঁচড়ার জন্য নিমপাতার ব্যবহার করতে পারেন। অথবা আপনি চাইলে নিমের তেল ব্যবহার করতে পারেন। দুটোই আপনার ত্বকের জন্য উপকার হবে। নিম পাতা গরম জলে দিয়ে অথবা গরম জল নিমপাতা দিয়ে করিয়ে আপনি সেই জল বা পানি যদি আপনার গায়ে দেন। তাহলে অবশ্যই আপনার শরীরের জন্য আপনার ত্বকের জন্য ভালো হবে। নিম পাতা দিয়ে পানি গরম করে সেই পানি ঢালা হয় তখন বীচি বা চুলকানি এগুলো অনেকটা সেরে যায় সেগুলোর জন্য উপকার হয়।
অ্যাপল সাইডার ভিগিনার
অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার ১ চা চামচ নিয়ে আপনি যেখানে ত্বকের সমস্যা বা ত্বক লাল হয়ে আছে সেখানে লাগিয়ে দিন। দেখবেন কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার ব্যথা বা ফুলে যাওয়া কমে যাবে এবং আপনি আরামদায়ক অনুভব করবেন, আপনি আরাম পাবেন। অ্যাপেল সাইডার ভিনিগার আপনার ত্বকের লাল হয়ে যাওয়া ত্বকের বিভিন্ন সমস্যায় আপনার ভাল কাজ এতে ত্বকের জন্য উপকারী হতে পারে অনেক সময়।
বেকিং সোডা
ত্বক সমস্যা সমাধানের জন্য বেকিং সোডা উপকারিতা রয়েছে। বেকিং সোডা জলে রাখুন তারপর সেই জল আধা ঘন্টা রেখে দিন। এরপর সেই জল দিয়ে গোসল করে নিন। তারপরে পানি দিয়ে এখন গা ধুয়ে নিন, তারপরে মুছে ফেলুন। দেখবেন আপনার অনেক ভালো অনুভব হবে। আপনার ত্বকে কিছুটা হলেও উপকার হবে এবং কিছুটা হল ত্বকের সমস্যার সমাধান হতে পারে।
বিশেষ দ্রষ্টব্য আপনি যদি আপনার ত্বকের কোন বেশি সমস্যা দেখেন তাহলে আপনি অবশ্যই আপনার পরিচিত বা একজন ভালো ত্বকের ডাক্তার দেখাবেন। স্কিন ডাক্তার দেখাবেন। এবং আপনি আপনার ফ্যামিলি ডাক্তার বা আপনার নিয়মিত ডাক্তারের সাথে অবশ্যই পরামর্শ নেবেন। কোন কিছু ব্যবহারের আগে অবশ্যই আপনি আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে বা ডাক্তারের অনুমতি নিয়ে বা ডাক্তারকে দেখিয়ে তারপর ব্যবহার করবেন।

Post a Comment